কুমিল্লার বুড়িচংয়ে লিপি আক্তার (৪০) নামের এক নারীকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মোবাইল ফোন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দ্বিতীয় স্বামী মোঃ সুমন (৩০) তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। চাঞ্চল্যকর এই ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সুমনকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে র্যাব-১১ (সিপিসি-২) ও র্যাব-১ (সিপিসি-১)-এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর সদর থানাধীন ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত সুমনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার শাহাগোদা এলাকায়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদকাসক্ত সুমন অকপটে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে র্যাব জানায় গত ২৮ মে (ঈদের দিন) রাতে সুমন বুড়িচংয়ের নোয়াপাড়ায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি আক্তারের ভাড়া বাসায় গিয়ে রাত্রিযাপন করে।
পরদিন (২৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সুমন ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যেতে চাইলে লিপি আক্তার বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুমন তাকে জোরপূর্বক বিছানায় ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ড শেষে মোবাইল ফোনটি নিয়ে সে দ্রুত পালিয়ে যায় এবং গ্রেপ্তার এড়াতে গাজীপুরে আত্মগোপন করে।
নিহত লিপি আক্তার নোয়াপাড়া এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। গত ২৮ মে ঈদের দিন বিকেলে তার মেয়ে দেখা করে শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাওয়ার পর রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরদিন সকালে মেয়ে মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এসে খাটের ওপর মায়ের লাশ দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply